জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা হোন্ডা মোটরের হিসাব বছর শুরু হয় এপ্রিলে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানির পরিচালন মুনাফা কমেছে অর্ধেক। শক্তিশালী ইয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ সময়ে হোন্ডার মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪২০ কোটি ইয়েন (১৬৬ কোটি ডলার), যা এলএসইজি পরিচালিত বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাসের চেয়ে এক-পঞ্চমাংশ কম। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের শুল্ক ছিল ২ দশমিক ৫, আর গত এপ্রিলে নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হয়েছে। এতে প্রথম প্রান্তিকে হোন্ডার মুনাফা প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি ইয়েন কমেছে। তবে পুরো বছরের জন্য শুল্কজনিত ক্ষতি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। মে মাসে ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ হাজার কোটি ইয়েন ধরা হয়েছিল। বর্তমানে তা ধারণা করা হচ্ছে, ৪৫ হাজার কোটি ইয়েনে সীমিত থাকতে পারে।
হোন্ডা চলতি অর্থবছরের পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার কোটি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার কোটি ইয়েন করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার দাঁড়াবে ১৪০, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ৫ ইয়েন কম।
কোম্পানিটির যুক্তরাষ্ট্রে নির্ভরশীলতা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের বৈশ্বিক বিক্রির ৪১ শতাংশ এসেছে মার্কিন বাজার থেকে, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ৩৭ ও ২০২২ সালে ২৬ শতাংশ।
হোন্ডা আশা করছে, গত মাসে হওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সেপ্টেম্বর থেকে জাপানি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৫ শতাংশে নেমে আসবে।
হোন্ডা জানিয়েছে, তারা বেশির ভাগ গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কানাডা ও মেক্সিকোয় তৈরি করে, কিছু গাড়ি সরাসরি জাপান থেকেও পাঠানো হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগের তুলনায় বেশি কর ছাড় পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।